মাস্ক পড়ে নামাজ আদায় করলে নামাজ হবেনা

মাস্ক পড়ে নামাজ আদায় করলে নামাজ হবেনা

 

মাস্ক পড়ে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে ফতোয়া, মাসয়ালা যে যাই দিক না কেন আমাদেরকে পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ উনাদের দিকে ফিরে যেতে হবে। যদি কোন নামধারী মুফতি, মাওলানা, আলেম কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ উনাদের স্পষ্ট বিরোধী ফতোয়া দেয় তাহলে বুঝতে হবে সে নিশ্চিত জালিম এবং মুরতাদ।

পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ থেকে জবাব।   

১) হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সিজদাহ করার ব্যাপারে সাতটি অঙ্গের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন। তম্মেধ্যে নাক ও কপাল রয়েছে। অর্থাৎ শর্ত হলো, নামাজের সিজদায় নাক ও কপাল যমিনে ঠেকাতে হবে। নচেৎ নামাজ হবে না।

দলিলঃ হযরর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনি বর্ণনা করেন। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, আমি সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা করার জন্য নির্দেশিত হয়েছি। কপাল দ্বারা এবং তিনি হাত দিয়ে নাকের প্রতি ইশারা করে এর অন্তর্ভুক্ত করেন, আর দুই হাত, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের আঙুলগুলো দ্বারা। আমরা যেন চুল ও কাপড় গুটিয়ে না নিই। (সহীহ বুখারী ৮১২)

অপর একটি হাদীছ শরীফে আরো স্পষ্ট বর্ণনা এসেছে।

হযরত আবু সাঈদ খুদরি রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আর্দ্র মাটিতে সিজদা করলেন। এমনকি আমি উনার কপালে ও নাকে কাঁদামাটির চিহ্ন দেখেছি। (সহীহ বুখারী ২০৩৬)

২) শর্ত হলো যদি কেউ জায়নামাজে নামাজ আদায় করে তবে অবশ্যই নাক ও কপাল জায়নামাজে ঠেকাতে হবে। নচেৎ নামাজ আদায় হবে না।

দলিলঃ হযরত আনাস ইবনে মালেক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে আমরা আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে নামাজ আদায় করতাম। আমাদের কেউ মাটিতে তার চেহারা (কপাল) স্থির রাখতে সক্ষম না হলে সে তার কাপড় বিছিয়ে তার ওপর সিজদা করতো। (সহীহ বুখারী ১২০৮)

পবিত্র এই হাদীছ শরীফ জায়নামাজে নামাজ আদায় করার নির্দেশনা দেয়। কেউ যদি যমিনের উপর জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করে তাহলে তার জায়নামাজ যমিন হিসেবে বিবেচিত হবে। সেক্ষেত্রে যমিনের পরিবর্তে জায়নামাজে নাক ও কপাল ঠেকাতে হবে। কিন্তু মুখমণ্ডল ঢাকা যাবে না।

৩) যমিনে হোক, জায়নামাজে হোক নাক ও কপাল যমিন অথবা জায়নামাজে ঠেকিয়ে সিজদাহ করতে হবে। কিন্তু মাস্ক পড়ে নামাজ আদায় করলে সিজদাহতে নাক কোনভাবেই জায়নামাজে ঠেকছে না। তাই মাস্ক পড়ে নামাজ আদায় করলে নামাজ হবে না।

যেমনঃ রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে কোন ব্যক্তিকে সালাতরত অবস্থায় তার মুখমণ্ডল ঢাকতে নিষেধ করেছেন। (আবূ দাঊদ ৬৪৩, ৬৫০, সুনানে ইবনে মাজাহ ৯৬৬)

সুতরাং এই ব্যাপারে আর কোন ওজর বা অজুহাত চলবে না। মাস্ক পড়ে নামাজ আদায় করলে নামাজ হবে না, হবে না হবে না। এটাই সম্মানিত শরীয়ত উনার চূড়ান্ত ফায়সালা।

প্লেগের হাদিসের ব্যাখ্যা কি?

প্লেগের হাদিসের ব্যাখ্যা কি?

হাদীস শরীফে রয়েছে

হযরত ‍উসামা ইবনে যাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন–“যখন তোমরা শুনবে যে, কোন স্থানে প্লেগ-রোগ হয়েছে, তাহলে সেখানে প্রবেশ করো না। আর যখন কোন স্থানে সেই রোগের প্রাদুর্ভাব হয় এবং তোমরা সেখানে থাকো, তাহলে সেখান হতে বের হয়ে যেয়ো না।

(সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ৫৭২৮/ সহীহু মুসলিম, হাদীস নং ৫৯০৫)

এ হাদীসে মহামারি কবলিত স্থানে কেউ থাকলে তাকে সেখান থেকে বের হয়ে আসতে নিষেধ করা হয়েছে এ ঈমানী বিশ্বাসের ভিত্তিতেই যে, ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই। অধিকন্তু সেই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো, এমতাবস্থায় যাতে সেখান থেকে চলে আসার দ্বারা তার মনে এ বিশ্বাস স্থান না পায় যে, সে সেখানে থাকলে সেই রোগে আক্রান্ত হবে।

অপরদিকে উক্ত হাদীসে মহামারি কবলিত স্থানে কাউকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে এ জন্য যে, যাতে সেখানে গিয়ে আল্লাহর হুকুমে সেই রোগে আক্রান্ত হলে, সে তার সেই ঈমানী পরীক্ষায় ফেল না করে এবং তার ঈমানকে নষ্ট না করে ফেলে এ কথা ভেবে যে, সেখানে যাওয়ার কারণেই তার এ রোগ হয়েছে। কেননা, ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই। বরং সবার সব রোগই মহান আল্লাহর হুকুমে নতুনভাবে হয়।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ ব্যক্তির কাছে উপস্থিত করা যাবে না। (বুখারী হা/৫৩২৮ ও মুসলিম হা/৪১১৭)

ইমাম নববী বলেন, কেননা এতে যদি আল্লাহর হুকুমে সুস্থ ব্যক্তি আক্রান্ত হয়, তাহলে সে তার তকদ্বীরের প্রতি বিশ্বাস না করে ঐ ব্যক্তিকে দোষারোপ করবে, ফলে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। (শরহে মুসলিম ৭/৩৭৩)

কিন্তু সেই প্রকৃত বাস্তবতাকে সম্যকরূপে উপলব্ধি না করে শুধু বাহ্যিক অবস্থা দেখে কেউ হয়তো মনে করতে পারে যে, সেই রোগীর সংস্পর্শের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার মধ্যে সেই রোগ সংক্রামিত হয়েছে এবং এভাবে সে তার ঈমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলতে পারে। এ জন্য এ ধরনের পরীক্ষায় অবতীর্ণ

হওয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখার জন্য হাদীস শরীফে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে রয়েছে

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏: لاَ يُورِدُ مُمْرِضٌ عَلَى مُصِحٍّ‏.

হযরত আবূ হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন–“রোগগ্রস্ত উট যেন সুস্থ উটের উপরে উপনীত না হয়।

(সহীহু মুসলিম, হাদীস নং ৫৯০৫)

এ হাদীসে ঈমানের সুরক্ষার জন্য সেরূপ পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে নিষেধ করা হয়েছে যে, কেউ তার সুস্থ জন্তুকে কোন রোগাক্রান্ত জন্তুর সাথে রাখবে। কেননা, এতে সেই সুস্থ জন্তু রোগাক্রান্ত হলে হয়তো তার মনে কোনভাবে এ ধারণার উদ্রেক হতে পারে যে, তার সুস্থ জন্তুকে সেই রোগাক্রান্ত জন্তুর সাথে রাখার কারণেই সেই রোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার মধ্যে সংক্রামিত হয়েছে। অথচ এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ও ঈমানের পরিপন্থী। বরং আল্লাহ তাআলার হুকুমেই সেই রোগ সুস্থ জন্তুর মধ্যে পয়দা হয়েছে, তা সেই রোগের নিজস্ব সংক্রমণের দ্বারা হয়নি।

 

এ হাদীস দ্বারা বুঝা গেলোঈমানের সুরক্ষার জন্য এ ব্যবস্থা অবলম্বন করা বিধেয় যে, সুস্থ ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন না হলে দুরারোগ্যে রোগাক্রান্ত ব্যক্তির নিকটে যাবে না। যাতে তার নিকট যাওয়ার দ্বারা সেই রোগ মহান আল্লাহর হুকুমে তার মধ্যে পয়দা হলে তাতে যেন সে বিভ্রান্তিতে পড়ে সেই রোগকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংক্রামক মনে করে ঈমানকে নষ্ট করার প্রয়াস না পায়।

 

এ ভিত্তিতেই একটি হাদীসে সেরূপ রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে মানুষের জমায়েত থেকে ফিরে তার আবাসে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উক্ত হাদীসের বিবরণ হলো

عَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ فِي وَفْدِ ثَقِيفٍ رَجُلٌ مَجْذُومٌ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّا قَدْ بَايَعْنَاكَ فَارْجِعْ

হযরত আমর ইবনে শারীদ স্বীয় পিতা শারীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, বনী সাক্বীফের প্রতিনিধি দলে একজন ব্যক্তি কুষ্ঠরোগী ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট সংবাদ পাঠিয়ে বললেন–“নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে বাইআত করে নিয়েছি। সুতরাং তুমি ফিরে যাও।

(সহীহু মুসলিম, হাদীস নং ২২৩১)

 

কিন্তু প্রয়োজন হলে কোন সুস্থ ব্যক্তির সেরূপ রোগীর নিকট যেতে কোন অসুবিধা নেই। কেননা, আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোন রোগই কারো মধ্যে সংক্রমণ করতে পারে নাএ বিশ্বাস রাখা প্রত্যেক মুমিনের জন্য জরুরী। অধিকন্তু সেই রোগীর শুশ্রূষার জন্য অন্য কেউ না থাকলে তার জন্য তার নিকট যাওয়া এবং তার শুশ্রূষা করা আবশ্যক। তবে সেক্ষেত্রে ঈমানের সুরক্ষার জন্য তখন সে ইচ্ছা করলে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে, যেমন, মুখে মাস্ক লাগিয়ে এবং শরীরে জীবানুরোধক পোশাক পরে তার কাছে যেতে পারে। এতে আল্লাহর হুকুমে সে সেই রোগে আক্রান্ত হলে, তখন সেই রোগীর সংস্পর্শের কারণে সেই রোগের সংক্রমণের শিকার হয়েছে বলে কুফরী ভাবনার পরীক্ষার মধ্যে সে পড়বে না।

রোগ সংক্রমণ বা ছোঁয়াচে রোগ সম্পর্কে পূর্ণ বিশ্বাস করলে এ ধরনের ব্যাধির রোগীরা সবাই অস্পৃশ্যে পরিণত হবে। মানবতার হক আদায় তখন নিদারুণভাবে বাধাগ্রস্থ হবে। কেউ এ ধরনের রোগীর সেবা-শুশ্রুষা করতে এগিয়ে আসবেনা। ফলে আল্লাহর অগণিত বান্দা চিকিৎসা বা সেবা-শুশ্রুষা থেকে বঞ্চিত হবে।

এখন যেমন হচ্ছে।

রোগ-ব্যধি (তার নিজস্ব ক্ষমতায়) একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে লেগে যায় না।

রোগ-ব্যধি (তার নিজস্ব ক্ষমতায়) একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে লেগে যায় না।

 

রোগের মধ্যে ক্রিয়া করার নিজস্ব ক্ষমতা নেই। তাই আল্লাহ চাইলে রোগাক্রান্ত হবে নতুবা হবে না। এজন্যই দেখা যায়, সংস্পর্শে যাওয়ার পরও অনেকে রোগাক্রান্ত হয় না।

হাদীসে বলা হয়েছে রোগ-ব্যধি (তার নিজস্ব ক্ষমতায়) একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে লেগে যায় না। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৫৭৪২)

মূলত ইসলামপূর্ব আরবের জাহেলি যুগে কিছু রোগ-ব্যাধিকে নিজস্ব ক্ষমতায় সংক্রামক মনে করা হত।

সেই প্রেক্ষিতে নবীজি সা. ইরশাদ করেছেন- عَدْوَى ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই।

এক বেদুইন জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ, তাহলে আমার উটের কী হলো, এগুলো সুস্থ অবস্থায় মাঠে চরছিল, এরপর খুজলিযুক্ত উট এসে এগুলোর মাঝে প্রবেশ করে, তারপর খুজলিযুক্ত উট সুস্থ উটগুলোকে খুজলিযুক্ত বানিয়ে দেয়?নবীজী বললেন, আচ্ছা, তাহলে প্রথম উটটি কীভাবে সংক্রমিত হলো?(অর্থাৎ প্রথম উট যেভাবে আল্লাহর হুকুমে খুজলিযুক্ত হয়েছে, বাকিগুলোও আল্লাহর ইচ্ছায়ই খুজলিযুক্ত হয়েছে)।

(সহীহ মুসলিম: হাদীস নং ৫৭১৭)।

অর্থাৎ সেই অবস্থায় প্রথম উটটিকে যেমন আল্লাহ তাআলা কোনকিছুর সংক্রমণ ব্যতিরেকে নতুনভাবে রোগাক্রান্ত করেছেন, ঠিক তেমনি পরেরগুলোও আল্লাহ তাআলারই হুকুমে রোগাক্রান্ত হয়েছে। তা কারো সংক্রমণের কারণে হয়নি।

সুতরাং বুঝা গেলোকোন রোগের স্বয়ংক্রিয় সংক্রমণ দ্বারা কারো সেই রোগ হতে পারে না। যদি সে রকম কিছু দেখা যায়, তা আসলে মহান আল্লাহর হুকুমে সেই রোগ তার মধ্যে নতুনভাবে তৈরি হয়েছেযেমনভাবে মহান আল্লাহর হুকুমে সেই রোগ নতুনভাবে প্রথমজনের মধ্যে তৈরি হয়েছে। এ বিষয়টিকে প্রত্যেক মুমিনের এরূপেই বিশ্বাস করতে হবে।

সেই যুগে লোকেরা বিশ্বাস করতো যে, রোগীর সংস্পর্শে এ রোগ তার নিজস্ব ক্রিয়াতে অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে থাকে। অথচ এরূপে কোন রোগ কারো মধ্যে সংক্রমণের ক্ষমতাকে বিশ্বাস করা শিরক ও কুফরী বিশ্বাস। সেই কুফরী বিশ্বাসকে এ হাদীসে বাতিল করা হয়েছে। এ হাদীসের এরূপ ব্যাখ্যা করে আস-সুনানুল কাবীর কিতাবে ইমামুল হাদীস আল্লামা আবু বকর বাইহাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি উক্ত হাদীসের অধ্যায়ের শিরোনাম দিয়ে বলেন

باب‏: لاَ عَدْوَى عَلَى الْوَجْهِ الَّذِى كَانُوا فِى الْجَاهِلِيَّةِ يَعْتَقِدُونَهُ مِنْ إِضَافَةِ الْفِعْلِ إِلَى غَيْرِ اللَّهِ تَعَالَى

এ বিষয়ের অধ্যায় যে, কোন রোগের সংক্রমণ বলতে কিছু নেইএ নাকচকরণ সেই সূরতের ভিত্তিতে যা জাহিলী যুগে মানুষ বিশ্বাস করতো তথা রোগ হওয়ার সম্বন্ধকে গাইরুল্লাহর দিকে করা। এ ভিত্তিতেই রোগের কোনরূপ সংক্রমণের ক্ষমতাকে নাকচ করা হয়েছে।

(দ্রষ্টব্য : আস-সুনানুল কাবীর, ১৫৮ পৃষ্ঠা)

হাদীস শরীফে রয়েছে

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَ بِيَدِ مَجْذُومٍ فَأَدْخَلَهُ مَعَهُ فِي الْقَصْعَةِ ثُمَّ قَالَ كُلْ بِسْمِ اللَّهِ ثِقَةً بِاللَّهِ وَتَوَكُّلًا عَلَيْهِ

হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন কুষ্ঠরোগীর হাত ধরলেন, অতঃপর তার হাতকে তার সাথে (খাবার খাওয়ানোর জন্য) স্বীয় বরতনে প্রবিষ্ট করলেন। তারপর বললেন–“আল্লাহর নামে খাও। আল্লাহর উপরে অবিচল নির্ভরতা এবং তাঁর উপরে অনড় ভরসা।(জামিউত তিরমিযী, হাদীস নং ১৮১৭/ সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ৩৯২৫)

তেমনিভাবে অপর হাদীসে এ ধরনের কুষ্ঠরোগীর নির্দ্বিধায় সুস্থ মানুষের সাথে ঘরে খাওয়া-থাকার বর্ণনা রয়েছে। সেই হাদীসটি হলো

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ لَنَا مَوْلَى مَجْذُومٌ فَكَانَ يَأْكُلُ فِي صِحَافِي وَيَشْرَبُ فِي أَقْدَاحِي وَيَنَامُ عَلَى فِرَاشِي

হযরত আয়িশা আলাইহাস সালাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন–“আমাদের একজন আযাদকৃত গোলাম ছিলো যে কুষ্ঠরোগী ছিলো। সে আমার বরতনে খাবার খেতো, আমার গ্লাসে পানি পান করতো এবং আমার বিছানায় ঘুমাতো।

(দ্রষ্টব্য : তুহফাতুল আহওয়াযী শারহু জামি তিরমিযী, ৫ম খণ্ড, ৪৩৮ পৃষ্ঠা)

অধিকন্তু মজবুত ঈমানের অধিকারী মুসলিমদের এভাবে সে ধরনের রোগীর সংস্পর্শে গিয়ে মহান আল্লাহর প্রতি বিনয়াবনত হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে রয়েছে

عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ كُلْ مَعَ صَاحِبِ الْبَلَاءِ تَوَاضُعًا لِرَبِّك وَإِيمَانًا

হযরত আবু যর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেনরোগ-বালাইগ্রস্ত ব্যক্তির সাথে খাও তোমার প্রতিপালকের প্রতি বিনয়াবনত হয়ে এবং তাঁর প্রতি অকুণ্ঠ ঈমান রূপে।(আল-জামিউস সগীর, হাদীস নং ৬৩৮৯)

(দ্রষ্টব্য : ফাইজুল ক্বাদীর শরহু জামিউস সগীর, ৫ম খণ্ড, ৪৩ পৃষ্ঠা)

বলা বাহুল্য, এরূপ ক্ষেত্রে বান্দার এটাই কর্তব্য যে, সেই রোগীর সংস্পর্শে এসে তার রোগ হওয়ার কারণে সে সেই রোগকে স্বয়ংক্রিয় সংক্রামক বলে বিশ্বাস করবে না। বরং সেই অবস্থায়ও তা মহান আল্লাহর হুকুমেই হয়েছে বলে বিশ্বাস করবে এবং নিজের ঈমানকে অটল রাখবে।

মোট কথা, মহান আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারো সেই রোগ হতে পারে না। সেই ভিত্তিতে প্রথম জনের যেভাবে মহান আল্লাহর হুকুমে সেই রোগ হয়েছে, তেমনি অন্যজনেরও আল্লাহর হুকুম হলে নতুনভাবে সেই রোগ হবে। আর আল্লাহর হুকুম না হলে কিছুতেই তার সেই রোগ হবে না। এ বিশ্বাসই সকল মুমিনের অন্তরে পোষণ করতে হবে।

ভন্ড নারীবাদী মারজিয়া প্রভার নারী ধর্ষনে সমর্থন !

ভন্ড নারীবাদী মারজিয়া প্রভার নারী ধর্ষনে সমর্থন !

 

একটি ধর্ষণ: একজন নারীবাদী ও একজন বাম নেতার ধর্ষণের সহযোগিতা

 

একটি মেয়েকে পার্টিতে ডেকে এনে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ধর্ষণ করা হয়, ধর্ষণের আলামত বুঝতে পেরে পার্টিতে অংশগ্রহণকারী একজন তার নারীবাদী বন্ধু ও প্রগতিশীল সাবেক ছাত্র নেতাকে সতর্ক করে এই ঘটনা আটকানোর অনুরোধ করে কিন্তু তারা একপাক্ষিকভাবে ধর্ষক ছাত্রনেতা কবিকে সহায়তা করে যায়। ঘটনার পর মেয়েটি অভিযোগ করলে বিষয়টি নিয়ে তারা বিভিন্ন মাধ্যমে এটা ধর্ষণ নয় বলে বক্তব্য প্রদান করেন এবং ভিক্টিম ব্লেমিং শুরু করেন। ধর্ষণের আলামত নষ্ট হওয়ার পর মেয়েটিকে মামলা করতে বলে তারা‘ “বিচার পাবে না” বিষয়টি মিন করে তারা ধর্ষকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

 

গত ৩ আগস্ট বন্ধুরা মিলে ঈদ পূর্ণমিলনী পার্টির আয়োজন করি। একান্ত বন্ধুদের এই আয়োজনে যুক্ত হন আমার বন্ধু নারী অধিকারকর্মী মারজিয়া প্রভা, তার প্রেমিক ছাত্র ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলার সাবেক নেতা বর্তমান শ্রমিক ফ্রন্টের সংগঠক রায়হান আনসারি। তাদের সাথে পার্টিতে নিয়ে আসেন ছাত্র ফ্রন্টের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক কবি সজিব তুষারকে। তুষারের সাথে সে পার্টিতে যুক্ত হয় তারই বাল্য বন্ধু একটি মেয়ে। যাকে এর আগে আমি চিনতাম না।

 

পার্টিতে ব্যাপক খাওয়াদাওয়া হয়, আড্ডা হয়, এক পর্যায়ে আমরা উইড টানি। নতুন যে মেয়েটি পার্টিতে আসে সে এর আগে এসব তেমন পান করেনি। তুষার তাকে ইচ্ছাকৃত-ভাবে ব্যাপক উইড খাওয়ায় এবং মেয়েটি একটা পর্যায়ে তার শারীরিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তুষার তখন মেয়েটির সাথে খুনসুটি করছিল। মেয়েটি তাতে বিরক্ত হয়ে তুষারকে সতর্ক করছিল। তুষার বিভিন্ন অজুহাতে মেয়েটির গায়ে পড়ছিল, গায়ে হাত দিচ্ছিল। বিষয়টি আমার নজরে আসার পর আমি তুষারকে সতর্ক করি এবং বলি, “তোমার কেমন বন্ধু জানি না, তবে সে বিরক্ত হচ্ছে তোমার এসব কাজে। তুমি নিজেকে কন্ট্রোল করো।” এর কিছুক্ষণের মাথায় তুষার মেয়েটিকে ধরে ধরে বাসার ছাদে নিয়ে যেতে চায়। মেয়েটি যাওয়ার সময় আমাকে বলে ভাইয়া আপনি যাবেন না? , আমি বলছি তোমরা যাও পরে আসব। এবার মেয়েটি আমাকে আবারও ডাকতে শুরু করে তাদের সাথে যাওয়ার জন্য। আমি এবার নিশ্চিত হয়ে যাই যে মেয়েটি তুষারের সাথে ইন-সিকিউরিটি ফিল করছে। আমি তাদের সাথে যাই ছাদে।

 

সেখানে একইভাবে মেয়েটিকে উত্যক্ত করছিল তুষার। আমি এটা টের পেয়ে মেয়েটির এটেনশন আমার দিকে নিয়ে এসে তাকে চাঁদ দেখাতে ব্যস্ত করে দেই। এরই মধ্যে রায়হান আনসারি ছাদে গিয়ে আমাকে বলে তাদের স্পেস দিতে অর্থাৎ ছাদ থেকে আমাকে চলে আসতে বলতেছে। আমি তখন রায়হানকে আমার সন্দেহের কথা প্রকাশ করে বলি- মেয়েটিকে তুষার বিরক্ত করছে. সেক্সুয়ালি হেরাজ করছে। এবং এক পর্যায়ে মেয়েটিকে বুঝতে না দিয়ে রায়হানকে ইংরেজিতে আমি প্রশ্ন করি "প্রভা এবং তুমি কেন তুষারকে ফেভার করছ? এটা তো ঠিক হচ্ছে না। আমার কাছে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। " প্রভা নাকি রায়হানকে ছাদে পাঠিয়েছিল আমাকে সরিয়ে এনে তুষারকে এবং ওই মেয়েকে স্পেস দিতে (পরবর্তীতে রায়হান আমাকে বলেছে)। যাই হোক এক পর্যায়ে আমি তাদের নিয়ে রুমে চলে আসি।

 

রুমে আসার পর আমি একটু খাবার খেতে যাই। এমন সময় মেয়েটি ঘুমানোর কথা জানালে তুষার ওই মেয়েকে নিয়ে রুমে চলে যায় এবং দরজা বন্ধ করে দেয়। (আমি যা পরে টের পাই যে তুষার মেয়েটিকে নিয়ে রুমে গেছে)। তখন দরজার পাশ থেকে শুনি মেয়েটি বলছে ডোন্ট, ডোন্ট ডু দিস, না না না। আমি সাথে সাথে রায়হানকে বিষয়টি অবগত করি এবং বলি যে মেয়েটির সাথে খারাপ কিছু হচ্ছে। তখন রায়হান আমাকে বুঝাতে চায় তাদের সেক্সুয়াল রিলেশন আছে, দু’জনের সে আন্ডারস্ট্যান্ডিং রয়েছে। সমস্যা নেই। আমি বললাম দু’জনের আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকলে মেয়েটি না না করছে কেন? আর আগে থেকেই মেয়েটা বিরক্ত হচ্ছে। রায়হান আমার কথায় পাত্তা দেয়নি।

 

তখন আমি প্রভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করি। প্রভা আমাকে বলে এই পার্টিতে সবাই কাপল আর আমি সিঙ্গেল বলে আমার জেলাস হচ্ছে। এটা নিয়ে সে আমাকে বিদ্রূপ করে। আমি তার থেকে এমন কথা আশা করিনি, কিন্তু একজন নারীবাদী বন্ধুর থেকে একজন নারীর সমস্যাকে ব্যাখ্যা করে আমি এমন উত্তর পেয়েছি তখন আমি হতাশ হয়ে যাই। এর পর একটা পর্যায়ে ঘরে দরজা খুলে তুষার বেরিয়ে আসে। মেয়েটি তখন বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে তুষার আবার দরজা বন্ধ করে দেয়। আমাকে রায়হান আর প্রভা এই বিষয় থেকে সরিয়ে নিয়ে আমাকে ব্লেম করে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়। এবং দরজা খুলে তাদের ঘর থেকে বের করে আনতে গেলে তারা আমাকে বাধা দেয়। নেশার ঘুরে আমিও কনফিউজড হয়ে যাই। পরে সকালে আমার সন্দেহ থেকে যায়, মেয়েটির সামনে আমি ঘটনাটি জানতে চাই। তখন সে রিয়েক্ট করে ওঠে এবং জিজ্ঞেস করে তার সাথে রাতে কী হয়েছে! তখনও মেয়েটি মাতাল। তাৎক্ষনিক সে তুষারকে কিল ঘুষি মারে এবং আমার সাথে এমন করলি কেন জানতে চায়। তুষার সেটাকে ব্যালেন্স করার জন্য বারবার বলতেছে আমি কি একা কিছু করেছি? মেয়েটিকে তখন বললাম যে ওরা তো আমাকে বলল তুষারের সাথে তোমার সেরকম সম্পর্ক আছে। তখন সে রিপ্লে করে না, সে আমার শুধু বন্ধু ছিল। রায়হান ভাই তো সব জানেন যে সে আমার বাল্য বন্ধু।

 

তখন আমি রায়হান এবং প্রভার সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। " আমাদের চোখের সামনে এমন একটি ঘটনা ঘটে গেল। আমি তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনেও তোমাদের বারবার বললাম যে এটা মেয়েটির সম্মতিতে হচ্ছে না। এখানে ধর্ষণ হচ্ছে তোমরা আমাকে উল্টো ব্লেইম করে তুষারকে এই কাজ করতে সহযোগিতা করেছ। আমাকে বাধা দিতে দাওনি।" এক পর্যায়ে তারা সবাই চলে যায়। (মেয়েটি তখনও আউট অব কনট্রোল ছিল) আমি ওই দিন বিকেলেই “মদ্যপ অবস্থায় যৌনতার সুযোগ নেয়া” শিরোনামে ফেসবুকে একটি লেখা প্রকাশ করি। সেখানে আমি যৌনতার এমন ফাঁদকে সমালোচনা করি এবং এমন ঘটনাকে সরাসরি ধর্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা দেই।

 

এর পর বিকেলে তুষার আমার সাথে দেখা করে এবং এই ঘটনার জন্য সে তার গিল্টি প্রকাশ করে। পরের দিন রায়হানকে নিয়ে আমি তুষারের বাসায় যাই এবং বিষয়টি আলোচনা করি। সেখানে তুষার জানায় এই ঘটনার পুরো সময়ে সে স্বাভাবিক সেন্সে ছিল। তবে সে তার এটা করা অন্যায় হয়েছে স্বীকার করে। (যার একাধিক প্রমাণ আমার কাছে আছে।) আমি সেদিন রায়হান ভাইকে বলি যে আপনি মেয়েটিকে নিয়ে এবং তুষারকে নিয়ে বসেন এবং জিজ্ঞেস করেন মেয়েটি কী শাস্তি চায় এই ঘটনার। এরপর মেয়েটির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে আমি ব্যর্থ হই। আমার বাসা থেকে সে বাড়ি ফেরার পর এটা ধর্ষণ যখন সে বুঝতে পারে তখন মেয়েটি সবাইকে ফেসবুকে ব্লক করে দেয়। সে এই ঘটনায় ট্রমায় চলে যায় এবং ৪/৫ দিন পর সে স্বাভাবিক হয়।

 

এমতাবস্থায় সে অপেক্ষায় ছিল যেহেতু রায়হান ও প্রভার মত মানুষের সামনে ঘটনা ঘটেছে তারা এর কী বিচার করে সে দেখার অপেক্ষায় ছিল। আইনগত ব্যবস্থায় সে শুরুতে যেতে চায়নি কারণ রক্ষণশীল পরিবেশে সে একটু ডিফ্রেন্ট লাইফস্টাইল লিড করে সেখানে এরকম বিষয় সামনে আনল এই কমিউনিটি নিয়ে মানুষ প্রশ্ন তুলবে। তাকে ব্লেইম করবে। এবং তার পরিবারের সমস্যা হবে। সে এটার একটা সামাজিক সিদ্ধান্ত, অর্থাৎ আমরা এই ধর্ষকের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেই সেটা দেখার অপেক্ষায় ছিল।

 

কয়েকদিন আগে তারা সবাই মিলে একটি ট্যুর এরেঞ্জ করে। যেখানে সজিব তুষারকে হোস্ট করা হয়। একই সাথে রায়হান ও প্রভা এবং আরও আমার পরিচিত কয়েকজন। বুঝলাম তারা ধর্ষকের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি এবং তাকে সামাজিকভাবে পেট্রোনাইজ করা হচ্ছে। ওইদিন বিকেলে রায়হান আমাকে ফোন করে ট্যুরে যেতে বলে। আমি সাথে সাথে রিপ্লে করি কোনো রেপিস্টের সাথে আমি ট্যুরে যাব না। একই সাথে আমি প্রশ্ন করি এ ঘটনায় তোমরা এখনও তুষারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নাওনি কেন? তখনই রায়হান তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে এবং জানায় যে "এটা ধর্ষণ আমি নিশ্চিত কিভাবে। এক পক্ষের বক্তব্য শুনে আমি কাউকে ব্লেইম করতে পারি না" হেনতেন বলে ভিক্টিম ব্লেমিং শুরু করে। একটা পর্যায়ে রায়হান বলে "বিচার চাইলে মেয়েটিকে আমার কাছে আসতে হবে, তাকে বিচার চাইতে হবে।" তখন আমি রায়হানকে বলি " একটা ধর্ষণের ঘটনায় তোমরা সহযোগী এবং সাক্ষী। মেয়েটি তোমাদের সামনে সকালেই অভিযোগ করেছে, তুষার এক পর্যায়ে শিকারও করেছে। তারপরও তোমরা কেন চাও যে মেয়েটি এসে বিচার চাইবে? তোমার দায়িত্ব কী এ ব্যাপারে? গ্রাম্য মুড়লদের মতো কথা বলার কোনো মানে বুঝলাম না।" এসব কথার পর তখনই আমি মেয়েটির সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবগত করি এবং সে কী বিচার চায় জানতে চাই। তার বক্তব্য তখন একই, "আমি সামাজিক ও পারিবারিক বিষয় চিন্তা করে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারিনি। কিন্তু রায়হান ও প্রভার সামনে এই ঘটনা ঘটার পরও তারা রেপিস্টকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার বলছে আমি বিচার চাইব! আমার বিচার চাইতে হবে কেন, তাদের দায়িত্ব কী সেখানে? আমি ছেড়ে দিলে তারাও একটা ধর্ষককে এভাবে ছেড়ে দিতে চাইছে কেন?" কথা শেষ হওয়ার পর মেয়েটি ফেসবুকে ৩ লাইনের একটা স্ট্যাটাস দেয়। এর পর রায়হান আমার সাথে দেখা করে মেয়েটিকে নিয়ে বসে। তুষার এসে কনফেস করে এবং মেয়েটি সবার সামনে তুষারকে থাপ্পড় দেয়। (রায়হানরা বক্তব্য বদলাতে পারে এবং এই ঘটনা ভবিষ্যতে আলোচ্য হতে পারে ভেবে এক পর্যায়ে আমি তার ভিডিও ও অডিও ধারণ করি)। এই সময়ে মেয়েটি রায়হানকে বলে তুষারকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে। তুষার নিজের দোষ স্বীকার করে পানিশমেন্ট মেনে নেয়ার পরও আমাদের ঘনিষ্ঠজন যে ২/৩ জন অবগত হয়েছিলেন বিষয়টিতে তাদের কাছে রায়হান বিষয়টি ধর্ষণ নয় বলে প্রচার করতে শুরু করে। এবং আমি এই ঘটনায় বিচার চাওয়ায় আমাকে উদ্দেশ্য করে কটাক্ক করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়।

 

একটি ধর্ষণের ঘটনায় তারা আলোচনায় আসলে আমাদের সামনে এটা ধর্ষণ স্বীকার করলেও অন্যদের ক্ষেত্রে এটাকে যৌন সম্পর্ক হিসেবে উল্লেখ করে ধর্ষণ নয় বলে বক্তব্য দিতে থাকে। যার একাধিক কল রেকর্ড আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। এই ঘটনায় আমি প্রভার সাথে আলোচনা করতে গেলে এবং প্রভা কেন তখনকার পরিস্থিতিতে ধর্ষণে সহযোগিতা করেছে জানতে চাইলে সে আমাকে জানায় রায়হান তাকে ভুল বুঝিয়েছে। যার প্রমাণও আমার কাছে আছে। একজন নারীবাদী হিসেবে এই ধর্ষণের ঘটনায় প্রভার ভূমিকা নিয়ে আমি সার্কেলের মধ্যে প্রশ্ন তোলার পর এতদিন পর এসে সে বলছে আমাকে ধর্ষণের সহযোগী উল্লেখ করে মামলা করা হোক। ধর্ষণের আলামত নষ্ট করে, মেয়েটি সামাজিক কারণে মামলা করবে না জেনে এই কথা বলার মানে আসলে ধর্ষণের বিচার চাওয়া বুঝায়? শুরুতে প্রভা এটাকে ধর্ষণ স্বীকার করলেও পরে ভিক্টিমকে সে ব্লেইম করে এবং আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমন করে। যা আমি গ্রুপ করে অনেককে দেখিয়েছি।

 

মদ্যপ অবস্থায় যৌনতা নিয়ে প্রভার দৃষ্টিভঙ্গি এমন যে যা হওয়ার হয়ে গেছে বা এমন হতেই পারে। এটা বুঝার পর আমি প্রভাকে বলেছিলাম তোমার সাথে এমন ঘটেছে বহুবার। তোমারে দু’জন মিলে রেপ করেছে বলেও তুমি আমাদের বলেছ। তুমি নিশ্চয়ই জানো একটা মেয়ের জন্য এটা কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতি। তার পরও সেদিন রাতে তুমি কেনো এরকম ঘটনা ঘটতে দিলে এবং আমাকে ঘটনা থেকে সরিয়ে নিতে ব্লেইম করলে। তার সঠিক উত্তর আমি পাইনি।

 

একটি ধর্ষণের ঘটনার পর প্রভা কিভাবে সেই ধর্ষকের সাথে প্রোগ্রামের হোস্ট হয়। রায়হান তাকে সামাজিক ভাবে বয়কট না করে ট্যুরে যায়। সে পার্টির একজন সিনিয়র নেতা হয়ে বিষয়টি পার্টিকে না জানিয়ে সাথে নিয়ে ঘুরে? এই ঘটনা আমাদের সার্কেলে জানানোর কারণে সে ব্যক্তিগত ইগোতে নিয়ে আমাকে ব্লেইম করে? তার ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সে একটি ধর্ষণকে আড়াল করতে উল্টো বক্তব্য দিতে থাকে? (তার পূর্ববর্তী বক্তব্য ও বর্তমান বক্তব্যের প্রমাণ আছে আমার কাছে) একজন ধর্ষককে আমি বিভিন্ন কারণে প্রকাশ্যে আনতে না পারলে অন্তত তাকে আমার কমিউনিটি থেকে বয়কট করতে চেয়েছি। এটা আমার অপরাধ হয় কিভাবে? কেন সে এটাকে আড়াল করার জন্য বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে? আমার ব্যক্তিস্বার্থে সেখানে কী সে কেন স্পষ্ট করতে পারছে না? শুধু মাত্র তুষার রায়হানের পার্টির মানুষ হওয়ার কারণে সে চুপ করে আছে। একই সাথে বিষয়টি ঢাকার চেষ্টা করছে। মারজিয়া প্রভা তার নারীবাদ ও আদর্শকে ভুলে প্রেমিককে সমর্থন করা এবং তার আসল চরিত্রকে ঢাকার জন্য কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

 

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সারাজীবন স্লোগান তোলা বামপ


ন্থি নেতা আজকে নিজের পার্টির ধর্ষকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে না দাঁড়িয়ে তাকে পৃষ্ঠপোষকতা করছেন কেন? তারাই তো ধর্ষণের বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়াত। মারজিয়া প্রভা "নারীর শরীর অধিকার একান্ত তার" এসব বাণী কম আউড়েছেন? তিনি কেন সামাজিকভাবে তুষারের বিরুদ্ধে গেলেন না? বরং আমি তুষারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কারণে তার বয়ফ্রেন্ড আমাকে নিয়ে স্ট্যাটাস দেয় আর প্রভা এসে সেখানে লাভ রিয়েক্ট দেয়। সজিব তুষার রায়হানের পার্টির কমরেড আর প্রভার সামাজিক কাজের সহযোগী হওয়ার কারণে তারা বিষয়টি নিয়ে চুপ আছেন?

 

এই ঘটনার পুরো সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে আমি কথা বলছি প্রয়োজনে প্রমাণ নিয়ে আসব। এইরকম ব্যক্তিবাদী চরিত্রের মানুষ ধর্ষক তুষার ও তার পৃষ্ঠপোষককে আমি বয়কট করছি। একই সাথে মৌলভীবাজারের সামাজিক সকল কর্মকাণ্ড থেকে আমি প্রভাকে বয়কট ঘোষণা করছি। সে এরপরও এসব কাজে এসে নারীবাদ ফলাতে গেলে তার অর্থনৈতিক উৎস ও অর্থসংস্থানের দুর্নীতি সামনে আনব। আমরা মৌলভীবাজারের যারা বিভিন্ন সময়ে প্রভাকে সহযোগিতা করেছি তাকে ভাল মানুষ মনে করেছি, আমাদের কাছে সে একজন ভন্ড নারীবাদী।আমরা সবাই তাকে বয়কট করার ব্যাপারে একমত।

https://archive.is/KSSLl 

কাশ্মিরী পন্ডিত বিতাড়নঃ মুসলমানরা নয়, হিন্দুরাই তাদের ভাগিয়েছে

কাশ্মিরী পন্ডিত বিতাড়নঃ মুসলমানরা নয়, হিন্দুরাই তাদের ভাগিয়েছে


১৯শে জানুয়ারি কথিত কাশ্মিরী পন্ডিত বিতাড়নের ত্রিশ বছর পূর্তি। ভারতবর্ষের ইতিহাসে ঘটনাটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে কাশ্মীর সংক্রান্ত যেকোন বিষয়েই পাল্টা যুক্তি হিসাবে বিজেপি নেতৃত্ব ও সমর্থকেরা ঘটনাটি "ব্যবহার" করে থাকে। কাশ্মীরে জঙ্গিসন্ত্রাস, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস থেকে শুরু করে যেকোন মানবাধিকারের দাবির বিপরীতে সর্বদা ১৯৯০ সাল থেকে আজ অব্দি অতি দক্ষিনপন্থী রাজনৈতিক ভাষ্যে আজও দাঁড়িয়ে কথিত "কাশ্মিরী পন্ডিত বিতাড়ন" ইস্যু। কি হয়েছিল সে সময়, কেমন ছিল রাজনীতির রং, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট কি বলে ?

কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিল। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে কাশ্মীরে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ ব্যবসা বানিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমরা ছিল কৃষি শ্রমিক, শিল্প সামগ্রী ও পর্যটন শ্রমিক। ডোগরা রাজাদের পৃষ্ঠপোষক ছিল হিন্দু জমিদার মালিক ও কাশ্মীরি পন্ডিতরা। প্রজাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই মুসলিম। মালিকশ্রেনির অত্যাচারহেতু দিনমজুরদের চাপা ক্ষোভ ছিল। ডোগরা রাজারা নিজেদের পরিজন ও পৃষ্ঠপোষক উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষদের সরকারি উচ্চ পদে বসাতো।

ডোগরা রাজা প্রতাপ সিং এর আমল অব্দি ঠিক ছিল। কাশ্মীরি পন্ডিতদের একাংশ জমিদারিত্ব নিয়ে ডোগরাদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগ করে খাচ্ছিল। শ্রমিকের ন্যায্য পারিশ্রমিকের জন্য মাঝে মধ্যে প্রজাবিদ্রোহ যে হত না তা নয়। সেরকম হলে প্রতাপ সিং এর সেনারা ডান্ডা মেরে প্রজাদের রাজতান্ত্রিক সবক শিখিয়ে দিত।

টিন্ডেল বিস্কো লিখেছে, মুসলিমরা ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাত না, কারন ডোগরা রাজার আমলে তাদের চাকরি মিলত না। মুসলিমরা জনসংখ্যায় ৯৬% হয়েও শিক্ষায় ১% এরও কম। ডোগরা রাজার উপর ভরসা হারিয়ে কয়েকজন মৌলানা ভাইসরয় লর্ড রিডিংকে চিঠি লিখে মুসলিমদের আর্থসামাজিক অবস্থা ও শিক্ষা বিস্তারের জন্য উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করে। চিঠির বয়ান ছিল -
"বর্তমানে কাশ্মীরের মুসলিমরা শোচনীয় পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। তাদের শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়টি চরমভাবে অবহেলা করা হচ্ছে। জনসংখ্যার ৯৬% হয়েও শিক্ষার হার মাত্র ০.8%... এতদিন আমাদের যাবতীয় দাবি, অধিকার ও ক্ষোভের প্রতি চরম উদাসীন থেকেছে রাষ্ট্র। আমরা মহামতি মহারাজের প্রতি এতদিন ধৈর্য্য রেখেছি, কিন্তু ধৈর্যেরও একটি সীমা আছে... দেশের হিন্দু পন্ডিতরা জনসংখ্যায় ৪% হয়েও প্রায় সমস্ত সরকারী বিভাগে ওরাই তর্কাতীতভাবে প্রভুত্ব করছে।"
(Representation to the Viceroy, Lord Reading by Khadmans of Khanqah Muallah, Shah Hadman, Srinagar, 29 Sept 1924 as quoted in Muslims of Kashmir, RI/I/I474, OICI).

চিঠি পেয়ে ভাইসরয় লর্ড রিডিং রাজা প্রতাপ সিংকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। নামকেওয়াস্তে তদন্তের পর "কাশ্মীর দরবার" প্রতিবেদন প্রকাশ করে যে ভাইসরয় এর কাছে এই দাবি যারা করেছে তার আসলে "দেশদ্রোহী"। ভাইসরইকে চিঠিতে যাদের স্বাক্ষর ছিল তাদের তিরস্কার করে কাশ্মীর থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

প্রজাপীড়ন ও শ্রমিকদের শ্রম চুরি করে রাজতন্ত্র ও সামন্ততন্ত্র বেশ ফুলেফেঁপে উঠেছিল। কিন্ত নতুন সমস্যা দানা বাঁধে শেষ মহারাজা হরি সিং এর আমলে। সিংহাসনে আরোহন করেই সরকারী পদগুলি সে কেবল তার বংশের জম্মুবাসীদের দিতে শুরু করল। স্বার্থে আঘাত লাগায় কথিত কাশ্মীরি পন্ডিতদের টনক নড়ে। তারা আওয়াজ তুলল কেন সরকারি পদগুলি "বহিরাগতদের" দেওয়া হবে। সেইসময় "কাশ্মীর কাশ্মীরিদের" এই স্লোগান কাশ্নীরি পন্ডিতরাই তুলেছিল। তাদের প্রায় একচ্ছত্র সামাজিক ক্ষমতায় "বহিরাগতরা" যাতে ভাগ বসাতে না পারে সেকারনে ১৯২৭ সালে রাজার উপর চাপ সৃষ্টি করে "Hereditary State Subject" নামে একটি আইন পাস করিয়ে নেয়। এই আইনের বলেই তারা যেমন বহিরাগতদের সরকারি চাকুরিতে নিয়োগ বন্ধ করে দেয়, তেমনি কাশ্মীরে বাইরের কারুর জমি কেনার রাস্তাও বন্ধ করে দেয়। অবশিষ্ট ভারতবর্ষের মানুষ কাশ্মীরে জমি কিনতে পারে না এই আইনের গেরোয় এবং আইনটি কাশ্মিরী পন্ডিতদের চাপেই তৈরি হয়েছে।

গত শতাব্দীর শেষ দশকের শুরু থেকে উপত্যকা জুড়ে যে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছিল সেটা ঘোলাটে হয়েছিল কাশ্মীরি পন্ডিত কথিত বিতাড়নকে কেন্দ্র করে। ১৯৮১র আদম সুমারী অনুযায়ী কাশ্মীরে হিন্দু জনসংখ্য ছিল ১২৪০৭৮ জন। মোট জনসংখ্যার ৪%। এদের মধ্যে একটা বড় অংশই কাশ্মীরি পন্ডিত শ্রেনির। ১৯৮৯-৯০ সালে এদের জনসংখ্যা ছিল ১৩০,০০০ থেকে ১৪০,০০০ এর মতো। বর্তমানে এদের বড় অংশ ভারতের বিভিন্ন বড় বড় শহরে বসবাস করে। দায়িত্বশীল উচ্চ প্রশাসনিক পদে বর্তমানে কর্মরত।

১৯৯০ সালের ফ্রেব্রুয়ারী মার্চের দিকে বিদ্রোহ যখন চরমে উঠল তখন প্রায় এক লক্ষ কাশ্মীরি পন্ডিত উপত্যকা ছেড়ে জম্মু ও দিল্লী শহরে পালিয়ে এসেছিল। এই ঘটনাটি ভারতের ধর্মীয় রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক প্রভাবিত কাশ্মীরি পন্ডিতদের সংগঠন বারংবার অভিযোগ তোলে যে নিছক "এথনিং ক্লিঞ্জিং" এর জন্য তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হিংসা ও সন্ত্রাস চালানো হয়েছে। পাকপ্রভাবিত ইসলামি সংগঠনগুলি জেহাদের নিমিত্তেই কাশ্মীরি পন্ডিতদের তাড়িয়েছে বলে তারা মনে করে। এমনকি বিতাড়নের সময় মাইকে ইসলামি স্লোগানও ব্যবহার করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

অন্যদিকে আজাদি সংগঠন গুলির দাবি যে আন্দোলনের চরিত্রকে ঘোলাটে করে দেওয়ার জন্য ভারতীয় প্রশাসন এই ষড়যন্ত্রটি করেছে। তারা আরও অভিযোগ করে যে বিশেষ করে জম্মু কাশ্মীরের তৎকালীন রাজ্যপাল জগমোহন সিং ইচ্ছাকৃতভাবে কাশ্মিরী পন্ডিতদের মনে ইসলামোফোবিয়ার আগুন জ্বালিয়েছে যাতে করে স্বাধীনতা আন্দোলনের চরিত্র সাম্প্রদায়িক রূপ পায়। এমন একটি পূর্বপরিকল্পিত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যাতে তারা কাশ্মীর ছেড়ে পালায়। পালানোর জন্য ট্রান্সপোর্টের সুব্যবস্থাও রাখা ছিল। কেন্দ্রে তখন ভিপি সিং এর নেতৃত্বে ন্যাশনাল ফ্রন্ট সরকার। বিজেপি ছিল শরিক।

বিজেপির কাছের লোক জগমোহনকে কাশ্মীরের রাজ্যপাল হিসাবে পাঠানো হয়। এই সেই জগমোহন যে ১৯৮৪তে দিল্লীর মুসলিম বস্তিতে বুল ডজার চালিয়ে বিখ্যাত হয়েছিল। জম্মু কাশ্মীরের রাজ্যপাল হিসাবে তার আগে জেনারেল কৃষ্ণ রাও মাত্র ছয়মাস পার করেছে। তার মধ্যেই হঠাৎ তাকে সরিয়ে এমন একজন মানুষকে রাজ্যপাল বানানো হল যে মুসলিমবিদ্বেষী হিসাবে খ্যাত। প্রতিবাদে ফারুখ আব্দুল্লা পদত্যাগ করল। বিধানসভা ভেঙে গেল। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হল। জগমোহন হয়ে উঠল কাশ্মীরের সর্বময় কর্তা।

মুজাহিদ গোষ্ঠী কথিত  কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নের জন্য দায়ী হলে তাদের নিরাপত্তা দিতে না পারার জন্য জম্মুর রাজ্যপাল ও বিজেপির সমর্থনপুষ্ট ভিপি সিং সরকারকে আগে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিৎ। এই দায় তারা নিতে রাজি কি ? মনে হয় না। তাবলীন সিং তার লেখায় বলেছে, "জম্মু কাশ্মীরের রাজ্যপাল হিসাবে জগমোহন সিং এর নিয়োগ কেন্দ্রীয় সরকারের ঐতিহাসিক ভুল। নবনির্বাচিত ভিপি সিং এর সরকারে এমন কেউ ছিল না যে এই সত্য কথাটি ভিপি সিং এর কানে তুলবে।" (Singh, Tragedy of Errors, p-131)

এসময় জগমোহনের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, গনহত্যা, লুন্ঠন চরম আকার ধারন করে। সাধারণ কাশ্মীরিদের উপর দমনপীড়নে রেকর্ড গড়লেন সে। ১৯৯০ এর ২১ থেকে ২৩শে জানুয়ারী ৩০০ কাশ্মিরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কয়েকবছরের পরিসংখ্যান ধরলে সংখ্যাটি আরও বহুগুন বেড়ে যাবে। দেশভাগ পরবর্তী যুগে কাশ্মীরে এমন গনহত্যার নজির বহু। জানুয়ারী মাসের এই গনহত্যার প্রতিবাদে কাশ্মিরীরা ১৯৯০ এর ১লা মার্চ যুক্তিবাদী দিবসটিকে মুক্তিকামী দিবস হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিল।

স্বাধীনতাকামী মুজাহিদদের দাবি ছিল যে তারা যাদের ভারত সরকারের চর বলে মনে করত তাদেরই হত্যা করত। ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পরের বছর ফেব্রুয়ারি মার্চ অব্দি যত জন তাদের হাতে খুন হয়েছে তাদের মধ্যে কিছু উচ্চ প্রশাসনিক ও বিভাগীয় পদে কর্মরত কাশ্মীরি পন্ডিত ছিল। "ইন্ডিপিন্ডেন্ট ইনিসিয়েটিভ অভ কাশ্মীর" এর রিপোর্ট অনুযায়ী চর সন্দেহে মিলিট্যান্টদের হাতে খুন হওয়া ১০০ জনের মধ্যে ৩২ জন হিন্দু, বাকি ৬৮ জন মুসলিম।

মুজাহিদদের মতানুযায়ী, "একজন বিশ্বাসঘাতক ৫০ জন দখলদার ভারতীয় সেনার সমান। হিন্দু মুসলিম যায় হোক, আমরা কাউকে ছাড়ব না" (ইন্ডিপিন্ডেট পত্রিকা, ১০.৬.৯০)। হাই প্রোফাইল কাশ্মীরি পন্ডিত যারা জেকেএলএফ এর হাতে শ্রেণীশত্রু হিসাবে খুন হয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হল বিজেপির কাশ্মীর ইউনিটের প্রেসিডেন্ট, একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক যে এক দশক আগে জেকেএলএফ এর সহপ্রতিষ্ঠাতা মকবুল বাটকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিল এবং ভারত-সরকার পোষিত দূরদর্শনের শ্রীনগর কেন্দ্রের ডিরেক্টর। এরকম প্রভাবশালী কাশ্মীরি পন্ডিতদের হত্যার ফলে এই সম্প্রদায়ের সাধারন মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার হয়েছিল। সেই ভীতি থেকেই তারা ভিটেমাটি ছেড়েছে। কিন্তু জেকেএলএফ এর বয়ান অনুযায়ী এই সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষকে হত্যা করা নয়, বরং যেকোন ধর্মীয় সম্প্রদায় নির্বিশেষে ভারত সরকারের "চর" দের হত্যাই তাদের উদ্দেশ্য।

পাশাপাশি একটা আর্থসামাজিক কারনও ছিল। কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়ন ইস্যুটিতে যে দীর্ঘ বছরের শ্রেনী সংঘাত রয়েছে সেটি আড়াল করার জন্য সাম্প্রদায়িক সংঘাতের বয়ান সামনে আনা হয়। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বাজারে বেশ লাভজনক পন্যও বটে। শুধু কাশ্মীরি পন্ডিত কেন, শিখ ও অপন্ডিত হিন্দু বিতাড়ন হল না কেন ? প্রশ্নগুলি উঠে আসবেই। কাশ্মীরের ইতিহাস গনহত্যা, অপহরন ও বিতাড়নের ইতিহাস। কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নই বিতাড়নের একমাত্র ইতিহাস নয়। এর আগেও কাশ্মীরে বিতাড়ন হয়েছে দেশভাগের পরেপরেই।

২৬ শে অক্টোবর, ১৯৪৭ হরিসিং ও নেহেরুর চুক্তির পরদিন ভারতীয় সেনা জওয়ানদের বিমান শ্রীনগর বিমানবন্দরে নামে। ভারতীয় সেনা জওয়ানদের তাড়া খেয়ে উপজাতি ও পুঞ্চ এলাকার কাশ্মীরি যুব বিদ্রোহীরা পিছু হটতে লাগল। তখন থেকেই শুরু হয় কাশ্মীরে মিলিটারি শাসন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আজাদ কাশ্মীর গঠিত হওয়ার পরেও এপারের কাশ্মীরে পাঠান উপজাতিরা হানা দিতে থাকে। বিদ্রোহের শক্তি ছিল পুঞ্চ এলাকার কাশ্মীরি যুবকরা। এরা প্রায় সবাই ছিল প্রাক্তন সেনা। তখন পুঞ্চ এলাকা ছিল রাজা ধ্যান সিং এর জায়গীরের অন্তর্গত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৭০ হাজার কাশ্মীরি যুবক মহারাজের ডাকে অংশগ্রহন করেছিল। যুদ্ধ শেষ হলে তারা নিজ এলাকায় ফিরে আসে। ফিরে এসে দেখে মহারাজা বিবিধ জিনিসের উপর অহেতুক কর চাপিয়ে বসে আছে। যেগুলো সাধারন প্রজাদের কাছে অসহ্য হয়ে উঠেছিল। অন্যদিকে মহারাজা তার সৈন্যদলের যুদ্ধফেরৎ মুসলিম যুবকদের নিতে চায়নি। তার সৈন্যদলে কেবল হিন্দু ও শিখ যুবকরাই ছিল। ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হতে লাগল মুসলিম যুবকদের।

মুসলিমদের উপর নির্যাতন ও অবহেলা মাত্রা ছাড়ায়। লক্ষ লক্ষ মুসলিম নিধন হয়। গুজব ছড়ায় যে মহারাজা মুসলিম নিধনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রানভয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে পালিয়ে যায় দুই লাখ মুসলিম (Ian Stephens, Pakistan, London, 1963, p-200)। কোন এক অদৃশ্য শক্তিবলে এই গনহত্যা ও বিতাড়নের ইতিহাস স্মৃতির আড়লে চলে গেছে।


এই গনহত্যা ও বিতাড়নের জন্য একদা মুসলিম অধ্যুষিত জম্মুতে মুসলিমরা সংখ্যালঘু হয়ে যায়। তবে কাশ্মীরে কাশ্মীরি পন্ডিতরা সংখ্যালঘুই ছিল। বিভিন্ন সরকারী চাকুরিতে তাদের উপস্থিতি খুব বেশি ছিল। জনসংখ্যার বিচারে চাকুরিক্ষেত্রে কাশ্মিরী মুসলিমদের উপস্থিতি তেমন ছিল না। এটাকে স্থানীয় মুসলিমরা বঞ্চনার নজির হিসাবেই মনে করেছিল। মুসলিমদের প্রতি বঞ্চনার এই প্রবনতা ডোগরা রাজাদের সময় থেকেই চলে আসছে।

কাশ্মীরি পন্ডিতরা বংশগতভাবে ডোগরা রাজাদের পৃষ্ঠপোষক ছিল। ফলতঃ ডোগরা রাজত্বের সময় মহারাজাদের আশীর্বাদে উচ্চ প্রশাসনিক পদগুলি কাশ্মীরি পন্ডিতরা দখল করে বসেছিল। তার উপর আবার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ডোগরা রাজাদের তেমন সখ্যতা ছিল না। যার দরুন সংখ্যালঘু হলেও পন্ডিতরা আর্থসামাজিক দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে ছিল। ১৯৯০ এর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে উপত্যকায় ধর্মান্ধ মৌলবাদী স্লোগান ধ্বনিত হয়েছিল বলে অভিযোগ আনা হয় তার কারন হতে পারে এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ।

তবে ইসলামীয় স্লোগান আদৌ ব্যবহার হয়েছিল কিনা, সেটা রাজনৈতিক গিমিক কিনা সে বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে। অনেকে মনে করেন সামাজিক বঞ্চনাজনিত ক্ষোভ ছিল আসল কারন। এহেন আর্থসামাজিক ভাষ্যটিকে সযত্নে আড়াল করা হয়। এই ঘটনার পর থেকে কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়ন ইস্যু ভারতের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিশাল বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। মিডিয়া প্রোপাগাণ্ডা কাশ্মীরে মিলিটারি শাসন জারি রাখার ক্ষেত্রে সবথেকে বড় যুক্তি হিসাবে কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নের ঘটনাটিকে খাড়া করে। কিন্তু আশ্চর্যজনক ব্যপার হল কতজন কাশ্মীরি বিতাড়িত হয়েছে, কতজনকে হত্যা করা হয়েছে, এই সংক্রান্ত যে মামলা গুলি চলছে সেগুলো কতদূর এগিয়েছে সেসম্পর্কে কোন নির্ভরযোগ্য সরকারী তথ্য নেই। এক নামী সংবাদ সংস্থা আরটিআই করেও সদুত্তর পাইনি।

জম্মু ও দিল্লীর শরনার্থী শিবিরের কাশ্মীরি পন্ডিতদের মধ্যেই বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে। তারা মনে করে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কাশ্মীরি পন্ডিতদের উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বিজেপির তেমন আগ্রহ নেই, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে রাজনীতির খেলা খেলতে চরম আগ্রহ রয়েছে। এমনকি কাশ্মীরি পন্ডিতদের জন্য ঘোষিত তিনখানা প্যাকেজের মধ্যে দুইখানা প্যাকেজই নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতার কুর্সিতে বসার অনেক আগের।

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগতভাবে কাশ্মীরিরা সুফি ধারাকে এতদিন মেনে চলেছে। পীর দরগা মাজারে হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সবাই যেত। নিজেদের জাতিগত সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্রতা ও মূল্যবোধকে বোঝাতে কাশ্মীরিরা "কাশ্মীরিয়াৎ" শব্দটি ব্যবহার করে। বাঙালীর বাঙালীয়ানার মতো। ধর্মীয় সমন্বয়, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিই "কাশ্মিরিয়াৎ" এর প্রানভোমরা। "কাশ্মীরিয়াৎ" আত্মপরিচয়ে কাশ্মীরের হিন্দু মুসলিম সবাই নিজেদের একাত্ম করতে পারে। ঠিক এই কারনেই কাশ্মীরের ইতিহাস নিয়ে আজীবন গবেষক অধ্যাপক সুমন্ত্র বসু কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়ন ইস্যু নিয়ে অন্বেষণ করতে গিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। বহু কাশ্মীরি পন্ডিত যারা ভিটে ছেড়ে পালিয়ে গেছিল তাদের অনেকেই ফিরে এসেছে।

আবার অনেক কাশ্মীরি পন্ডিত জানায় যে যেদিন তারা পুনরায় উপত্যকায় ফিরে আসে প্রতিবেশী মুসলিমরা তাদের সাদরে গ্রহন করে, গোটা মহল্লা তারা মিষ্টি বিতরন করে উৎসব পালন করে। আবার কিছু পন্ডিত স্বাধীনতাকামী মুজাহিদ গ্রুপের প্রতি সংহতি জানায়। কিছু মুজাহিদ গোষ্ঠীও পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে কাশ্মীরি পন্ডিতদের স্বভূমিতে ফিরে আসার আহ্বান জানায়। সেই সঙ্গে তারা স্থানীয়দের সতর্ক করে দেয় যে কেউ যাতে পন্ডিতদের সম্পত্তি বেদখল করে না নেয়। ১৯৯০ এর অক্টোবরে বিজেপির জর্জ ফার্নান্ডেজ মুখ ফসকে বলে ফেলেছিল যে কাশ্মীরে কাশ্মীরি পন্ডিতদের জমিজায়গা, সম্পত্তি বেদখল হয় নি (Fernandes, India's Policies in Kashmir, p-291)। হিজবুল্লা নামে এক মুজাহিদ গোষ্ঠী ১৯৯১ এর নভেম্বরে এক কাশ্মীরি পন্ডিত দম্পতিকে অপহরন করেছিল। ৪৫ দিন পর তারা ছাড়া পায়। ফিরে আসার পর তাদের বয়ান ছিল,
"এই সময়কালে বিভিন্ন সময়ে আমরা ৫৭টি মুসলিম বাড়িতে থেকেছি। তারা সবাই আমাদের প্রতি যথেষ্ট ভালবাসা ও আতিথেয়তা দেখিয়েছে। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের সহানুভূতির দরুণ আমরা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার শক্তি পেয়েছি... আমরা গ্রামে গ্রামে ঘুরেছি। বহু মানুষের সাথে কথা বলেছি। বিভিন্ন মুজাহিদ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত তরুণদের সাথে কথা বলে তাদের দাবি ও বক্তব্য জানার চেষ্টা করেছি। তাদের সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে শিক্ষা থেকে ধর্ম, সামাজিক জীবন, রাজনীতি, কাশ্মীরিয়ৎ, মানুষের সরল আবেগ সবকিছুই। তাদের কথায় কথায় বারবার উঠে এসেছে কিভাবে পারস্পরিক সম্পর্কের সেতু নির্মান করে সবার হৃদয় জেতা যায়। এইরকম আলাপচারিতার মধ্য দিয়ে যতদিন গেছে কাশ্মীরিদের মধ্যে প্রেম ভালবাসা সদাশয়তার উপর আমাদের বিশ্বাস আরও পোক্ত হয়েছে।" [Khemlata Wakhloo and O. N. Wakhloo, Kidnapped: 45 Days with Militants in Kashmir (Delhi: Konark, 1993, 396)].

দুইজন প্রথিতযশা বিচারপতি ভি.এম তারকুন্ডে ও রাজিন্দর সাচার এবং দুইজন শিক্ষাবিদ বলরাজ পুরি ও অমরিত সিং কাশ্মীর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য ১৯৯০ এর মার্চ এপ্রিল মাসে কাশ্মীরে যায়। সরজমিনে তদন্তের পর তারা বলে’ যে কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নের দায় জগমোহন সিং । কাশ্মীরের মানুষের উপর অত্যাচার চালিয়ে ভারত ভূখন্ড থেকে কাশ্মীরের মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার দায় জগমোহন সিংকে নিতে হবে। ‘

ভারতীয় মিডিয়া ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকরা প্রায়শই অভিযোগ করে এসেছে যে বাবরি মসজিদ কান্ডের পরে জম্মু কাশ্মীরে প্রচুর মন্দির ধ্বংস করা হয়েছে। এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করার জন্য ১৯৯৩ সালের ফ্রেব্রুয়ারী মাসে দেশের প্রথম সারির একটি পত্রিকা অনুসন্ধান চালিয়েছিল। সাংবাদিকদের অস্ত্রসহ একটি তালিকা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিজেপির দিল্লী অফিস থেকে দেওয়া এই তালিকায় ছিল ২৩ টি জায়গার মন্দিরের নাম, যে মন্দির গুলো নাকি ধ্বংস করা হয়েছে। বিজেপির সর্বোচ্চ নেতা লালকৃষ্ণ আদবানী উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তদন্তের আগে বললে, " কাশ্মীরে যে এতগুলো মন্দির ধ্বংস করা হল, কেউ কিছু বলল না, কেন এই দ্বিচারিতা?" তদন্তকারীর দল বিস্তর তদন্ত করে এসে ছবি দেখাল যে ২৩ টি মন্দিরের মধ্যে ২১ টিই অক্ষত আছে। আর অন্য দুটি হালকা কিছু ক্ষতি হয়েছে, সেটা সহজেই সারিয়ে নেওয়া যায়।

তদন্তকারীর দল প্রতিবেদন পেশ করল,
"১৯৯০ এ কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নের পর যেসব গ্রাম গুলিতে এক দুটি পন্ডিত পরিবার রয়ে গেছে সেখানে মন্দির গুলো অক্ষত রয়েছে। এমনকি বেশ কিছু গ্রাম অস্ত্রধারী মুজাহিদে পরিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও মন্দিরের দেওয়ালে কোন আঁচড় পড়েনি। পন্ডিত পরিবারের লোকেরাই মন্দির গুলোর দেখাশুনা করে। প্রতিবেশী মুসলিমরা তাদের উৎসাহিত করে মন্দিরে নিয়মিত পূজো দিতে"(India Today, 28 Feb. 1993, 22–25).